সিকান্দার আবু জাফর (১৯১৯-১৯৭৫)
প্রখ্যাত কবি, সংগীত রচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক সিকান্দার আবু জাফর 'সমকাল' পত্রিকার জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন। ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাঙালি সংস্কৃতিচর্চার যে ধারা গড়ে ওঠে, তিনি ছিলেন তার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। ১৯৬৭ সালের জুন মাসে রবীন্দ্রসংগীত পাকিস্তানের আদর্শের পরিপন্থী- এই বক্তব্য উপস্থাপন করে পাকিস্তান সরকার রেডিও ও টেলিভিশন থেকে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তিনি এর বিরোধিতা করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি স্বাধীনতা, দেশপ্রেম ও বিপ্লবের চেতনাসম্পন্ন অনেক গান রচনা করেন যা জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। তাঁর কবিতায় যুগযন্ত্রণা বলিষ্ঠভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- সিকান্দার আবু জাফর ১৯১৯ সালে সাতক্ষীরা (তৎকালীন খুলনা) জেলার তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। (আদি নিবাস- পাকিস্তানের পেশোয়ার)
- প্রকৃত নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহাম্মদ বস্তু সিকান্দার।
- তিনি কিছুকাল কলকাতার 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- তিনি ১৯৬৬ সালে 'বাংলা একাডেমি পুরস্কার' লাভ করেন।
- ৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
পত্রিকার সাথে যুক্তঃ
'মাসিক সমকাল' (১৯৫৭)- প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, 'দৈনিক ইত্তেফাক' (১৯৫৩)- সহযোগী সম্পাদক, 'দৈনিক মিল্লাত' (১৯৫৪)- প্রধান সম্পাদক।
তাঁর সাহিত্যকর্মসমূহঃ
কাব্যগ্রন্থ:
'বাঙলা ছাড়ো': এ কাব্যের কবিতা 'গরবিনী মা-জনী, 'বিধ্বস্ত নীলিমা', 'আর্ত শব্দাবলী', 'নজরুল: জন্মদিনে'।
'মালব কৌশিক' (১৯৬৯)
'প্রসন্ন প্রহর' (১৯৬৫): এ কাব্যের কবিতা 'আলো চাই' 'বৈরীবৃষ্টিতে' (১৯৬৫), 'তিমিরান্তিক' (১৯৬৫), 'কবিতা' (১৯৬৮), 'বৃশ্চিক লগ্ন' (১৯৭১)।
উপন্যাস: 'মাটি আর অশ্রু' (১৯৪২), 'পূরবী' (১৯৪৪), 'নতুন সকাল' (১৯৪৫)। কিশোর উপন্যাস : 'জয়ের পথে' (১৯৪২), 'নবী কাহিনী, (জীবনী-১৯৫১)।
গল্পগ্রন্থ : 'মতি আর অশ্রু' (১৯৪১)।
রূপক নাটক : 'শকুন্ত উপাখ্যান' (১৯৫৮)।
ঐতিহাসিক নাটক : 'সিরাজউদ্দৌলা' (১৯৬৫)।
জীবনী নাটক : 'মহাকবি আলাওল' (১৯৬৫)।
অনুবাদ : 'রুবাইয়াৎ ওমর খৈয়াম' (১৯৬৬), 'সিংয়ের নাটক' (১৯৭১)।
বিখ্যাত গান : 'আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই'।